সূরা আল-বাকারা (সূরা ২) হলো কুরআনের সর্ববৃহৎ সূরা, এতে রয়েছে অনেক ফজিলত ও উপকারিতা যা সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এটি মদীনায় নাজিল হয়েছে এবং এতে ২৮৬টি আয়াত রয়েছে। নিচে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত তুলে ধরা হলো:
🌟 সূরা আল-বাকারার ফজিলত:
1. শয়তান থেকে রক্ষা:
রাসূল (সা.) বলেছেন:
“তোমরা তোমাদের ঘরকে কবরস্থান বানিয়ো না। নিশ্চয়ই যে ঘরে সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না।”
— (সহীহ মুসলিম: 780)
2. বরকতের সূরা:
রাসূল (সা.) আরও বলেন:
“সূরা আল-বাকারাকে গ্রহণ করা বরকতময় এবং তা পরিত্যাগ করা আফসোসের বিষয়, আর তা জাদুকরদের আয়ত্বের বাইরে।”
— (সহীহ মুসলিম: 804)
3. কিয়ামতের দিনে সুরক্ষা দানকারী:
“সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান কিয়ামতের দিন দুইটি মেঘের মত, অথবা দুইটি ছায়া দেওয়া পাখির সারির মতো হবে, যারা কুরআনের পাঠকের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।”
— (সহীহ মুসলিম: 805)
4. আয়াতুল কুরসির বিশেষ ফজিলত:
সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত “আয়াতুল কুরসি” — কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত।
রাসূল (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করে, আল্লাহর পক্ষ হতে একজন রক্ষাকারী তার সঙ্গে থাকে এবং শয়তান তার কাছাকাছি আসতে পারে না।”
— (বুখারী: 2311)
5. শেষ দুই আয়াতের ফজিলত:
“যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত (আমানার রাসুলু...) পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।”
— (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
📌 কীভাবে উপকার পাবেন?
-
প্রতিদিন কিছু আয়াত তিলাওয়াত বা মুখস্থ করুন।
-
শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬) রাতে ঘুমানোর আগে পড়ুন।
-
ঘরে নিয়মিত সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করলে শয়তান দূরে থাকবে।
🤲 উপসংহার:
সূরা আল-বাকারা হলো একটি আলোকিত সুরা যা জীবনের প্রতিটি দিক নির্দেশনা দেয় — ঈমান, বিধান, দোআ, রুহানিয়াত এবং রক্ষার দিক থেকে। এর ফজিলত শুধু দুনিয়া নয়, আখিরাতেও কাজে আসবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সূরা আল-বাকারার ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দিন — আমিন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন